আপনি কি নতুন ল্যাপটপ বা পিসি কিনেছেন? কিংবা পুরনো কম্পিউটারটি স্লো হয়ে যাওয়ায় নতুন করে উইন্ডোজ দিতে চাচ্ছেন? উইন্ডোজ ইন্সটল করাটা খুব কঠিন কিছু নয়, কিন্তু একটি "Clean Install" বা নিখুঁত সেটআপ দেওয়াটা একটি শিল্প। অধিকাংশ মানুষ কেবল উইন্ডোজ দিয়েই কাজ শেষ করেন, কিন্তু ড্রাইভার আপডেট, ব্লোটওয়্যার (অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ) রিমুভ করা এবং সঠিক অপ্টিমাইজেশন না করার ফলে পিসি পূর্ণ গতিতে চলতে পারে না।
আজকের এই গাইডে আমরা দেখাবো কীভাবে একদম প্রফেশনাল নিয়মে Windows 11 ইন্সটল করবেন এবং তারপর সেটিকে টিউন করে সুপার-ফাস্ট করবেন। আপনি নতুন ব্যবহারকারী হোন বা টেক এক্সপার্ট, এই টিউটোরিয়ালটি আপনার পিসির পারফরম্যান্স বদলে দেবে।
Requirements / Tools (যা যা লাগবে):
কাজ শুরু করার আগে নিচের জিনিসগুলো প্রস্তুত রাখুন:
১. একটি ৮ জিবি (8GB) বা তার বেশি স্টোরেজের পেনড্রাইভ।
২. ইন্টারনেট কানেকশন (ওয়াইফাই বা ল্যান)।
৩. পিসিতে থাকা প্রয়োজনীয় ডাটার ব্যাকআপ (কারণ আমরা ড্রাইভ ফরম্যাট করবো)।
৪. ধৈর্য্য এবং নিচের ধাপগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়ার মানসিকতা।
Step-by-Step Guide (ধাপে ধাপে নির্দেশিকা)
Step 1: বুটেবল ইউএসবি (Bootable USB) তৈরি করা
প্রথমে আমাদের পেনড্রাইভটিকে উইন্ডোজ ইন্সটলেশনের জন্য প্রস্তুত করতে হবে।
মাইক্রোসফটের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে "Media Creation Tool" ডাউনলোড করুন।
পেনড্রাইভটি পিসিতে লাগান (মনে রাখবেন, পেনড্রাইভের সব ডাটা ডিলিট হয়ে যাবে)।
টুলটি ওপেন করে
Create installation media (USB flash drive)অপশনটি সিলেক্ট করুন।আপনার পেনড্রাইভটি সিলেক্ট করে
Nextদিন এবং প্রসেস শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।
Microsoft Media Creation Tool selecting the USB flash drive option.
Step 2: নেটওয়ার্ক ড্রাইভার ডাউনলোড (খুবই গুরুত্বপূর্ণ টিপ)
অনেকেই এই ভুলটি করেন—উইন্ডোজ দেওয়ার পর দেখেন ওয়াইফাই বা ইন্টারনেট কাজ করছে না। তাই উইন্ডোজ দেওয়ার আগেই আপনার ল্যাপটপ বা মাদারবোর্ডের মডেল অনুযায়ী ম্যানুফ্যাকচারারের ওয়েবসাইট থেকে Wi-Fi এবং LAN Driver ডাউনলোড করে ওই একই পেনড্রাইভের একটি আলাদা ফোল্ডারে রেখে দিন।
Step 3: বায়োস (BIOS) সেটআপ এবং বুট
পেনড্রাইভ পিসিতে লাগানো অবস্থায় পিসি রিস্টার্ট দিন।
পিসি চালু হওয়ার সময় কীবোর্ডের
Boot Menuকি (Key) চাপতে থাকুন। (MSI-এর জন্য F11, অন্যদের জন্য F12, F10 বা Del হতে পারে)।বুট মেনু থেকে আপনার পেনড্রাইভটি সিলেক্ট করুন।
Step 4: উইন্ডোজ ইন্সটলেশন প্রসেস
এখন আসল কাজ শুরু।
ভাষা এবং সময় সিলেক্ট করে
Install Nowএ ক্লিক করুন।প্রোডাক্ট কি (Product Key) চাইলে, যদি না থাকে তবে
I don't have a product keyসিলেক্ট করুন।উইন্ডোজের ভার্সন (যেমন: Windows 11 Pro) সিলেক্ট করুন।
লাইসেন্স এগ্রিমেন্টে টিক দিয়ে
Custom: Install Windows only (advanced)সিলেক্ট করুন।সতর্কতা: এখানে আপনার হার্ডড্রাইভের পার্টিশন দেখাবে। পুরনো উইন্ডোজের ড্রাইভগুলো সিলেক্ট করে
Deleteকরে দিন। যখনUnallocated Spaceদেখাবে, সেটি সিলেক্ট করেNextদিন।
Step 5: সেটআপ এবং ইন্টারনেট বাইপাস (Pro Tip)
উইন্ডোজ ইন্সটল হওয়ার পর সেটআপ স্ক্রিন আসবে। উইন্ডোজ ১১ সাধারণ নিয়মে ইন্টারনেট এবং মাইক্রোসফট অ্যাকাউন্ট ছাড়া সেটআপ করা যায় না। তবে আপনি চাইলে এটি বাইপাস করতে পারেন:
নেটওয়ার্ক কানেকশন পেজে আসলে
Shift + F10চাপুন। কমান্ড প্রম্পট আসবে।টাইপ করুন
OOBE\BYPASSNROএবং Enter দিন। পিসি রিস্টার্ট হবে।এখন আপনি
I don't have internetঅপশনটি পাবেন এবং লোকাল অ্যাকাউন্ট (Local Account) দিয়ে সাইন-ইন করতে পারবেন। মাইক্রোসফট অ্যাকাউন্টের ঝামেলা শেষ!
উইন্ডোজ পরবর্তী জরুরি কাজ (Post-Install Setup)
উইন্ডোজ দেওয়া শেষ মানেই কাজ শেষ নয়। এবার পিসিকে ব্যবহারের উপযোগী করার পালা।
১. ড্রাইভার ইন্সটলেশন
উইন্ডোজ ওপেন হওয়ার পর যদি দেখেন ইন্টারনেট নেই, তাহলে স্টেপ-২ এ ডাউনলোড করা ড্রাইভারগুলো পেনড্রাইভ থেকে ইন্সটল করে নিন। এরপর GPU Driver (Nvidia বা AMD) তাদের অফিসিয়াল সাইট থেকে লেটেস্ট ভার্সন নামিয়ে নিন। MSI ব্যবহারকারীরা MSI Center অ্যাপটি ব্যবহার করে এক ক্লিকে সব ড্রাইভার আপডেট করতে পারেন।
২. এক ক্লিকে সব অ্যাপ ইন্সটল (Ninite)
প্রতিটি সফটওয়্যার আলাদা আলাদা ডাউনলোড না করে ninite.com এ যান। আপনার প্রয়োজনীয় সব সফটওয়্যার (যেমন: Chrome, Zoom, VLC, 7-Zip) সিলেক্ট করে একটি ছোট ইন্সটলার ডাউনলোড করুন। এটি রান করলে সব অ্যাপ অটোমেটিক লেটেস্ট ভার্সনে ইন্সটল হয়ে যাবে এবং কোনো বাড়তি টুলবার বা ভাইরাস আসবে না।
৩. ব্লোটওয়্যার রিমুভ (Debloating)
নতুন উইন্ডোজের সাথে অনেক অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ আসে (যেমন: Clipchamp, Solitaire, Copilot)।
Settings > Apps > Installed Apps-এ যান।
অপ্রয়োজনীয় অ্যাপগুলোর পাশে থ্রি-ডট (...) মেনুতে ক্লিক করে
Uninstallকরে দিন। এতে পিসি হালকা হবে।
Common Problems & Solutions (সাধারণ সমস্যা ও সমাধান)
সমস্যা: "This PC can't run Windows 11" এরর দেখাচ্ছে।
সমাধান: আপনার পিসিতে TPM 2.0 এনাবল করা নেই। বায়োস থেকে এটি অন করতে হবে। অথবা Rufus সফটওয়্যার দিয়ে পেনড্রাইভ বুটেবল করার সময় "Remove RAM/Secure Boot/TPM requirement" অপশনটি টিক দিয়ে দিলে পুরনো পিসিতেও উইন্ডোজ ১১ চলবে।
সমস্যা: উইন্ডোজ আপডেটের পর পিসি স্লো হয়ে গেছে।
সমাধান: টাস্ক ম্যানেজারে (Ctrl+Shift+Esc) যান,
Startupট্যাবে ক্লিক করুন এবং অপ্রয়োজনীয় অ্যাপগুলোDisableকরে দিন।
Extra Tips (এক্সপার্ট টিপস)
উইন্ডোজ ডিফেন্ডারই যথেষ্ট: সাধারণ ব্যবহারের জন্য আলাদা অ্যান্টিভাইরাস কিনে পিসি ভারী করার দরকার নেই। উইন্ডোজের ডিফল্ট সিকিউরিটি এখন অনেক শক্তিশালী।
বিং সার্চ বন্ধ করা: উইন্ডোজ সার্চ বারে কিছু খুঁজলে ইন্টারনেটের রেজাল্ট (Bing) চলে আসে, যা বিরক্তিকর। এটি বন্ধ করতে
Regeditব্যবহার করতে হয় (তবে নতুনদের জন্য এটি এড়িয়ে চলাই ভালো, কারণ ভুল করলে উইন্ডোজ ক্র্যাশ করতে পারে)।শর্টকাট: উইন্ডোজ ইন্সটলের সময় বার বার মাউস ক্লিক না করে
Tabকি ব্যবহার করে দ্রুত অপশন সিলেক্ট করা শিখুন।
Conclusion (উপসংহার)
অভিনন্দন! আপনি এখন সফলভাবে একটি ক্লিন উইন্ডোজ ১১ সেটআপ এবং অপ্টিমাইজেশন সম্পন্ন করেছেন। ভিডিওতে দেখানো এই পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করলে আপনার পিসি যেমন দ্রুত চলবে, তেমনি গেমিং বা ভারি কাজেও সেরা পারফরম্যান্স পাবেন।
আপনার জন্য পরবর্তী ধাপ: আপনার পিসিটি একবার রিস্টার্ট দিন এবং উইন্ডোজ আপডেট (Windows Update) চেক করে সর্বশেষ সিকিউরিটি প্যাচগুলো ইন্সটল করে নিন।
এই গাইডটি আপনার উপকারে আসলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না!




